শিক্ষার্থীদের হাতে বই মুখে হাসি

নতুন বছরে নতুন ক্লাসে ওঠার আনন্দ। তার সাথে যোগ হয়েছে নতুন বই পাওয়ার খুশি। এই খুশি যেন কোনভাবেই বাধ মানতে চায় না শিক্ষার্থীদের। তাই তো নতুন ক্লাসের নতুন বই, নতুন নতুন গন্ধ ও মুখে হাসি। বই হাতে পেয়েই যেনো উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেছে সারাদেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের

নতুন বছরে নতুন ক্লাসে ওঠার আনন্দ। তার সাথে যোগ হয়েছে নতুন বই পাওয়ার খুশি। এই খুশি যেন কোনভাবেই বাধ মানতে চায় না শিক্ষার্থীদের। তাই তো নতুন ক্লাসের নতুন বই, নতুন নতুন গন্ধ ও মুখে হাসি। বই হাতে পেয়েই যেনো উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেছে সারাদেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা।

ব্যাপক উৎসাহ -উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে রাজধানীর উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজে বই বিতরণ উৎসব ২০২৩ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার (১ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজ চত্ত্বরে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বই বিতরণ উৎসবের উদ্বোধন করেন ঢাকা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান। পরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির অডিটোরিয়ামে শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান।

শুরুতে বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ থেকে তিলাওয়াত করা হয়। এরপর জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। তারপর শুরু হয় অতিথিদের বক্তব্য।

এসময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান বলেন,১ জানুয়ারি আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের দিন। কেননা, এই দিনে দেশে বিনামূল্যের বইয়ের উৎসব হয়,যা বিশ্বের কোথাও ঘটে না। এজন্য আমরা গর্বিত।

তিনি বলেন, যার প্রতি কৃতজ্ঞতা না জানালে নয়। তিনি আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার নেতৃত্বে স্বাধীন বাংলাদেশ হয়েছে। তিনিই আমাদের স্বাধীনতার রূপকার। আর তারই কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নয়নের রূপকার। তার নেতৃত্বে আমরা ২০২১ সালের মধ্যম আয়ের দেশের স্বপ্ন দেখেছি, যা ইতোমধ্যে বাস্তব। এখন আমরা ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ, ক্ষুধা-দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছি। আর সেই লক্ষ্যে কাজ করছি।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তোমাদের স্বপ্ন দেখতে হবে। আর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য মন দিয়ে পড়াশোনা করতে হবে।

অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বাচ্চাদের উগ্রবাদ, জঙ্গিবাদ, মাদকাসক্তি সাম্প্রদায়িকতা থেকে দূরে রাখতে হবে। কেননা,হলি আর্টিজানে আমরা দেখেছি-অনেক ভদ্র পরিবারের সন্তানরাও এসবে জড়িয়ে যাচ্ছে। কাজেই আমরা চাই আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম এসব থেকে মুক্ত থাকবে। সেজন্য অভিভাবকদের সচেতন থাকতে হবে।

এই জেলা প্রশাসক বলেন, জীবনে অনেক সমস্যা, বাধা বিপত্তি আসবে। কিন্তু হাল ছাড়লে হবে না। আরেকটা বিষয় আমাদের কেউ পড়াশোনায় ভালো, কেউ খেলাধূলায় ভালো আবার কেউ ভিন্ন কিছুতে। কাজেই যার যে গুণ রয়েছে আমাদের সেটাতে চর্চা করা উচিত। এক্ষেত্রে আমি অভিভাবকদের বলবো, বাচ্চাদের প্রেশার দেবেন না।

বই বিতরণ উৎসবে সভাপতিত্ব করেন উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) আ.ন.ম শামসুল আলম খান। বক্তব্যে তিনি ভালো ফলাফল অর্জনে প্রধান অতিথিসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

তিনি আরো বলেন, ছাত্রানং অধ্যয়ানং, তপঃ এই নীতিতে সকল শিক্ষার্থী যেন পড়ালেখায় মনোনিবেশ করে তার জন্য সকল শিক্ষার্থীকে আহ্বান জানাই।

সবশেষে ন্যাশনাল কারিকুলামের নতুন বই শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করেন প্রধান অতিথি। এরপর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আয়োজনটি শেষ হয়। পুরো আয়োজনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক- শিক্ষার্থী, অভিভাবকবৃন্দসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ১৯৮৩ সাল থেকে শুরু হয় বিনামূল্যের পাঠ্যবই বিতরণ। যেখানে ২০০৯ সালের আগ পর্যন্ত প্রাথমিক স্তরের নির্ধারিত কয়েকটি বিষয়ের বই শিক্ষার্থীদের দেয়া হতো। ওই সময়ে একজন শিক্ষার্থীকে অর্ধেক নতুন আর অর্ধেক পুরনো বই দেয়া হতো। তখন শিক্ষার্থীদের সব বই পাওয়ার জন্য মার্চ-এপ্রিল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতো। পরে ঝরে পড়া রোধসহ শতভাগ শিশুকে বিদ্যালয়ে ধরে রাখার নিমিত্তে ২০০৯ সাল থেকে মাধ্যমিক পর্যন্ত সব শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণের যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার। পরে ২০১০ শিক্ষাবর্ষ থেকে বছরের প্রথম কর্মদিবসে পাঠ্যপুস্তক উৎসব দিবস পালন করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১০ সাল থেকে ২০২২ (চলতি শিক্ষাবর্ষ) সাল পর্যন্ত ১৩ বছরে মোট ৪শ’ ৩৫ কোটি ২৪ লাখ ৯০ হাজার ৪১ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। বিনামূল্যে বই বিতরণ করার এই মহাযজ্ঞ দেশ-বিদেশে কুড়িয়েছে প্রশংসা। শুধু তাই নয়, সরকারের নানামুখী পদক্ষেপের কারণে করোনাকালীন বই উৎসব না হলেও নতুন বই বিতরণ ঠিকই হয়েছে। ফলে বৈশ্বিক এই সংকটের সময়েও হাসি ফটেছে কচিকাঁচাদের মুখে। এ বছরও বই উৎসবে বই বিতরণ হচ্ছে।




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top